সিডনিতে ট্রিবিউট টু নায়করাজ রাজ্জাক ও সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার

সিডনিতে ট্রিবিউট টু নায়করাজ রাজ্জাক ও সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার
আয়োজক

আয়োজক

নায়করাজের জীবনের গল্পই যেন হয়ে উঠেছিল বাংলা সিনেমার পটভূমি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ বহু উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার।

সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই দুই কিংবদন্তী স্মরণে সম্প্রতি সিডনিতে পালিত হয় ‘ট্রিবিউট টু নায়করাজ রাজ্জাক ও সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার’। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন ‘এসো বাংলা গানে ভাসি’ শীর্ষক সংগঠনের কর্মকর্তা হ্যাপি রহমান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীসমাজ ও অনুরাগীরা।এসময় তাঁরা প্রয়াত দুই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুরুতেই শিল্পীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সংগঠনের অপর কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শুরু হয় প্রয়াত অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা পর্ব। এতে বক্তব্য রাখেন মিরজাহান মাজু, রুক্সানা আক্তার জেবা,জেসমিন রহমান,শায়লা জাহিদ,আঞ্জুমান আহমেদ,আসাদ শামস,শফিক মজুমদার।

দ্বিতীয় পর্বে মিরজাহান মাজু ও ফাহিমা সাত্তার কিংবদন্তী নায়ক রাজ্জাক অভিনীত সাড়া জাগানো বাংলা সিনেমা ‘অবুঝ মন’-এর একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন এবং গান গেয়ে শোনান ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’।স্মৃতিচারণ ও গানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেসমিন রহমান ও শফিক মজুমদার। তাঁরা গেয়েছিলেন- ও মাস্টারসাব আমি নাম দস্তখত শিখাতে চাই। এই দুই গুণী শিল্পীর ওপর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদ শামস।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সম্মিলিতভাবে মিরজাহান মাজু, রুকসানা জেবা, শায়লা জাহিদ ও আঞ্জুমান আহমেদ।

সিডনিবাসী শিল্পীদের মধ্যে একে একে গান গাইলেন ফাহিমা সাত্তার,জেসমিন রহমান,শাহানাজ পারভিন,আসাদ শামস,আঞ্জুমান বেবি,মিরজাহান মাজু, মাসুম আহমেদ,রেবেকা মনি, জাকির পারভেজ, শিরিন হায়দ্রি, খন্দকার মামুন, আয়েশা আহমেদ ও তৌফিক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে গুণী এই শিল্পীদ্বয়ের ওপর একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এবং ষাট থেকে নব্বই দশকের পুরুনো দিনের বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টার দিয়ে অডিটোরিয়াম সাজানো হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী ঋদ্ধি টকিজের কর্ণধার সুমন চৌধুরী পোস্টার সরবরাহ করে উৎসাহ যুগিয়েছেন এ অনুষ্ঠানে। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি ভালবাসা ও সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানে আয়োজকবৃন্দ, উপস্থাপক ও আগত দর্শক/অতিথি সকলেই পুরুনো দিনের নায়ক-নায়িকাদের সাজে ঢং-এ সেজে এসেছিলেন। আয়োজক ও উপস্থাপকের পরনে ছিল বাংলা সিনেমার পোস্টারে অলংকৃত শাড়িl যেন এরাই রাজ্জাক, কবরী, শাবানা কিংবা শবনম এর প্রতিচ্ছবি__ যেখানে সিনেমা প্রেমীদের ‘অবুঝ মন’ এ প্রিয় নায়ক রাজ্জাক আলোর মিছিল’ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। বিনে সুঁতোয় গাঁথা এসব স্মৃতিই সেদিন দর্শক মনে সিনেমা প্রেমকে দ্বিগুণ উস্কে দিয়েছিলো।

মঞ্চ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হ্যাপি রহমান, সামিন শাখাওয়াত ও দীপ্র। হারমোনিয়াম-এ ফাহিমা সাত্তার, শাহনাজ পারভিন ও তবলায় ছিলেন জিতু। আলোকচিত্রী ছিলেন ফয়েজ রহমান।

আবদুল জব্বারের গাওয়া বিখ্যাত গান ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ সমবেত কণ্ঠে গেয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

হ্যাপি রহমান
সিডনি,অস্ট্রেলিয়া
০৫.১০.২০১৭ইং

 

 

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment

Your e-mail address will not be published.
Required fields are marked*


Related Articles

BDR Massacre and International Crimes (Tribunals) Act 1973

There is an enlightened debate on whether the International Crimes (Tribunals) Act (Act no XIX of 1973) applies or not

বিশ্ব নাগরিক সৃষ্টিতে একুশ শতকের বিশ্ববিদ্যালয়

প্রশান্ত – মহাসাগরের অপর পাড়ে বসে যখন এ লেখা লিখছি তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর মত জনদরদী ৩০০

কান্নার তনু

তনু যখন সব বন্ধুদেরকে ফোন দিয়ে বলছিল, আমি চলে যাচ্ছি, মাফ করে দিস; আমরা কেউ তার কথা বিশ্বাস করতে পারিনি।