Home | Articles | শেখ হাসিনার সাফল্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা

শেখ হাসিনার সাফল্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা

Font size: Decrease font Enlarge font
image

একটি শুদ্ধ নির্বাচন ও একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা দাবিতে যখন আওয়ামী লীগ সহ মহাজোট সোচ্চার, তখন দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ একটি নীল নকশার নির্বাচনে একান্তভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন। তখন সামরিক বাহিনীর একদল সাহসী অফিসার মহাজোট ও তাদের পাশে সমবেত জনতার পক্ষ নেয়। তারা ইয়াজউদ্দিনকে দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশকে একটি মহাসংকট থেকে রক্ষা করে। এরপর মহাজোট র্দূনীতিবাজদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবী করে। তত্ত¡াবধায়ক সরকার সেই দাবী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পড়ে বেকায়দায়। কারণ সরকারের মাঝেও রয়ে গেছে চারদলীয় জোটের এজেন্টরা। তারা কাল্পনিক সব মামলা দিয়ে একটি অনৈতিক সমতা আনার চেষ্টা করে। ফলে সকল সুন্দর ও মহতী চেষ্টাগুলি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। নানা উসকানী সত্তে¡ও অসম ধৈয্যের পরিচয় দেয় জাতি। কারণ একটি মহল সারাক্ষণ সক্রিয় ছিল সামরিক শাসন জারির হীন প্রচেষ্টায়। আর সেই হীন প্রচেষ্টাকে সফল হতে দেয়নি জনগণ ও সামরিক বাহিনীর তরুণ নেতৃত্ব। তাঁদরে সহনশীল মনোভাব আমাদেরকে একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা ও একটি অবাধ নির্বাচন উপহার দেয় ২৯শে ডিসেম্বর। সেই নির্বাচনে জনগণ ১৯৭০ সালে যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা দিয়েছিল তেমনি নতুন করে ক্ষমতা দেয় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে।

 

১৯৭০ সালের পরাজয় যারা মেনে নিতে পারেনি তারা আবার ২৫ শে মার্চের মত ২৫ শে ফেব্রয়ারী ২০০৯ কালো থাবা মারে। লক্ষ্য আরেকটি ১৫ আগষ্ট সৃষ্টি করে ক্ষমতায় আসা। জনগণ ও বিক্ষুব্ধ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অসম ধৈয্যর পরিচয় দিয়ে ঐ রাজনৈতিক সুনামিকে মোকাবেলা করে। আর এই সফল নেতৃত্বে ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তথাপি সংসদে ও বাইরে সমালোচনার ও গুঞ্জন। সরকার নাকি সব সেকটরে ব্যর্থ। এই নির্দয় সমালোচনা যারা যুক্ত তাদের কাছে তাদের  নেত্রী বেগম জিয়ার ভাষায় জানতে চাই: সরকার কি কোন ভাল কাজ করেনি? বেগম জিয়া আঁচলের ছায়াতলে থেকে যারা লুটপাট করে জাতির অপরিণাম ক্ষতি করেছেন তাদের কাছে জানতে চাই: শেখ হাসিনার কি কোন সাফল্য নেই বিগত আট মাসে?

 

শেখ হাসিনার প্রথম সাফল্য তিনি একটি সৎ মন্ত্রিসভার জাতিকে উপহার দিয়েছেন। তিনি দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরেছেন, কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে দেশ । চাঁদাবািজ, টেন্ডারবাজি আর খুনখারাবীর খবর আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে সরকার বসে নেই। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩৮ বছরের জঞ্জাল কি কেবল আট মাসে উপড়ে ফেলা যায়? আপনাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসলে জনগণের কল্যাণের কথা ভাবুন, সরকারকে সাহায্য করুণ। ক্ষমতার চোরাগলি খুঁজে না বেড়িয়ে জনতার কাতারে আসুন। ক্ষমতার চোরাগলিতে ষড়যন্ত্র করে কেবল গণতন্ত্রের বিকাশ ও জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করা যাবে।  সরকার উৎখাত করে আপনারা গদিতে বসতে পারবেন বলে যে দিবা স্বপ্ন দেখছেন তা একটি শিশুও বোঝে। তাওয়া গরম হতে সময় লাগে। সরকার উৎখাত করলে আপনারাই আগে ফেঁসে যাবেন। নিজের নাক ভেঙ্গে অপরের যাত্রাভঙ্গ কি কোনদিন সুফল বয়ে আনবে?

 

টিপাইমুখী বাঁধ আর করিডোরের রাজনীতি কেবল ভারত বিরোধী মনোভাব গঠন করা যাবে। আর কোন ফায়দা হবে না। সংসদ বর্জন কেবল আপনাদের ব্যর্থতাকে আরোও স্পষ্ট করে তুলবে। আর যারা তলবের রাজনীতি করছেন তারাও সাবধান: সংযত হন এবং সম্মানের সঙ্গে তথ্য প্রদান করতে সহযোগিতা চান। যদি সেটা করতে পারেন তবে আমাদের রাজনীতির অগ্রযাত্রা হবে। সরকারকে সুষ্ঠভাবে কাজ করতে সহায়তা করেন।

 

সংসদীয় কমিটিগুলি অনেকটা আক্রমাণত্বক। এটি একটি অশুভ রাজনীতিকে প্রশয় দেয়। কমিটিগুলির কার্যক্রম থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে তারা যেন একটি প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। এভাবে যদি আপনারা বিরোধীদলকে আঘাত করেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার বা সেই সময়ে যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে হেস্তনেস্ত করেন বা  উপদেষ্টাদেরকে কোনঠাসা করতে উদ্যত হন তাহলে গণতন্ত্রের শিশুটির বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যাবে। আবার ফিরে আসবে বিভীষিকাময় দিনগুলি।

 

সুন্দরভাবে  আত্মসম্মান রক্ষা করে কাজ করে যান, নেত্রীকে সাহায্য করুন, একদিন সুফল পাবেন। উপদেষ্টাদেরকে বিব্রত করে, প্রশাসনকে খোঁচাখুচি করে, বিরোধীদলকে উসঁকে দিয়ে যে আগুন আপনারা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাতে যে দাবানল সৃষ্টি হবে সেই দাবানলের আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না।

 

সরকার মনে হচ্ছে অসংখ্য এজেন্ডা নিয়ে ফেলেছে। তাদের উচিত হবে অগ্রাধিকার বিবেচনা করা। কিভাবে আইন শৃংখলা রক্ষা করা যায়, কিভাবে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, কিভাবে মানুষকে বিদ্যুত-পানি সাশ্রয়ী করে তোলা যায়, কিভাবে যানজট থেকে নগরবাসীদেও পরিত্রাণ দেওয়া যায়, কি করলে সত্যি সত্যি কম্যুনিটি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলি জনমুখী হয়, কিভাবে প্রতিিিট পরিবারের একজনকে একটি কাজ দেওয়া যায় দ্রুততার সঙ্গে সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। ধরাধরি নয় বরং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হবে মূল ও একমাত্র কাজ।

 

সংসদ ভবনে বসে তলব তলব করলে জনগণ বিব্রত হয়। সকল নাগরিকের সম্মান রক্ষা সরকার, সংসদ, বিচারালয় সবার দায়িত্ব। আগামী ২৯শে ডিসেম্বরের মধ্যে সকল বিচার কাজের ইতি টানা উচিত। সরকার যদি এক পা হাটে তবে যারা ক্ষমতা পাননি তার এক পা টেনে ধরছেন! এই বিভেদ জাতিকে কি কিছু দিতে পারছে?

 

সরকার এখন যেমন বিদ্যুত সাশ্রয়ের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে উদ্যত হয়েছেন এই কাজটি আরোও আগে শুরু করা উচিত ছিল। সরকারের উচিত যাতে প্রাইভেট কার রাস্তায় কম নামে সেদিকে নজর দেওয়া। একটি মাত্র অফিস সময় যান জটের অন্যতম কারণ। বিদেশে দেখেছি ৩টায় এক ধরণের অফিস ও স্কুল শেষ হয়, কতকগুলি বিকাল ৫ টায়। আমাদের উচিত সকাল ৭টায় হাসপাতাল, সকাল ৮ টায় সরকারী অফিস, সকাল ৯টায় ব্যাংক বীমা শুরু করা। প্রচুর মানসম্মত বাস নামানো যাতে জনগণ প্রাইভেট কার নিয়ে রাস্তায় না নামে। স্কুলগুলির জন্য বাস চালু করা।

 

আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে কম্যুনিটিকে যুক্ত করা যেতে পারে।  আইন শৃংখলা, পানি বিদ্যুত ও যানজট এর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি হবে সরকারের অন্যতম কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীট বাড়িয়ে নয় বেশী বেশী টেকনিক্যাল কলেজ জাতির জন্য প্রয়োজন।

 

আমি আবারও বলতে চাই বেশী ভারী ভারী বোঝা নিয়ে সরকার বেশী দূর এগোতে পারবে না। সাবধান! জনগণ কিন্তু প্রতিদিন সরকারকে মূল্যায়ন করছে। তাঁরা শান্তি চায়। সরকারের সকলের দায়িত্ব শান্তির জন্য কাজ করা। সরকারী দলের অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ধ কারোও কাম্য নয়। সংসদীয় কমিটি, উপদেষ্টা ও সরকারের মাঝে থাকতে হবে যোগাযোগ।

 

একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা এবং একটি অবাধ নির্বাচন আদায় করে শেখ হাসিনা যে সাফল্য দেখিয়েছেন তাকে আরোও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ১/১১-র পর আপনাদের কারোও কারোও ক্ষমতার দূর্বলতাই তত্ত¡াবধায়ক সরকারকে দির্ঘায়িত করেছে। ১/১১-র ভাল কাজগুলি আজ নস্যাত হতে চলেছে। রাস্তায় আবার র্দূনীতিবাজরা সরব! এখন সহযোগিতার দিন। সহযোগিতাই কেবল আপনাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারে।     

 

লেখক: ফরিদ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Subscribe to comments feed Comments (1 posted):

arshad hossain bhuiyan on 31 August, 2009 11:50:00
avatar
Thank you, Farid bhai for a wonderful on timing article ! we want more writings like that for ruling goverment .because it is the time dont do any mistake otherwise we will go back 100 years behind . government running by human being , they can mistake, not like that we are angel never do mistake but we have very few real wise good people , as a nation its our badluck .
Thumbs Up Thumbs Down
0
total: 1 | displaying: 1 - 1

Post your comment comment

Please enter the code you see in the image:

  • - -
    - -
    email Email to a friend
  • print Print version
  • Plain text Plain text
Rate this article
0
Tags
No tags for this article

Give Addrita a right to live
Give Addrita a right to live
omission
Short Film About Bengali Immigrants
Performer Needed
Media Partner - PriyoAustralia
Priyo Writers

Navigate archive
first first July, 2010 first first
Su Mo Tu We Th Fr Sa
1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30 31