Life time achievement award to legendary Nazrul Sangeet singer Firoza Begum
Life time achievement award to legendary Nazrul Sangeet singer Firoza Begum news has written in Bangla. If your computer does not support Bangla, you may consider to read attached pdf file.
[English Text only]
শিল্পী ফিরোজা বেগম কে আজীবন সম্মননা দিল পার্থের প্রবাসী বাঙালিরা
-শর্মিষ্ঠা সাহা
নজরুল সংগীতের অঘোষিত সম্রাজ্ঞী ফিরোজা বেগমকে আজীবন সম্মাননা দেবে বাংলাদেশ থেকে বহুদুরে ভারত মহাসাগরের ওপারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বাংলাভাষাভাষীদের দিন গোনার পালা শেষ হয়ে অবশেষে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ-২৩শে জুন, শনিবার সন্ধ্যায়। জন কার্টিন হলে সমবেত দশর্কদের মধ্যে উপস্থিত হলেন ফিরোজা বেগম এবং তার দুই সুযোগ্য পুত্র মাইলস তারকা হামিন আহমেদ আর শাফিন আহমেদ। অতিথীরা অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয়ে গেল সেদিনের আয়োজন। আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখলেন “ বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন অব ওযয়স্টার্ন অস্ট্রেলিয়া” (বাওয়া)র সভাপতির পক্ষে অধ্যাপক সৈয়দ মফিজুল ইসলাম। এরপর শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় শিল্পীর নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এতে অংশ নেন অমিত, সাথী, স্বর্ণা, রাইসা, সোহেল, নজরুল এবং পৃথ্বিজিৎ। এরপর শিল্পীর জীবনের উপর ১০ মিনিটের ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
এরপর শিল্পীকে আজীবন সম্মানান প্রদান করা হয়। শ্রদ্ধেয় ফিরোজা বেগমের হাতে পদকটি তুলে দেন বাওয়া সভাপতির পক্ষে সৈয়দ মফিজুল ইসলাম। এছাড়া শিল্পীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাওয়ার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অঙ্কিত একটি চিত্র হস্তান্তর করেন আয়োজক কমিটির সমন্বয়কারী ডাঃ আতাউর রহমান খান। সমাগত দশর্করা এসময় দাঁড়িয়ে শিল্পীকে সম্মান প্রদশন করেন । এরপর শিল্পী তার জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দশর্কদের সামনে তুলে ধরেন। সঞ্চালকের সংগে আলাপচারিতার মাধ্যমে এসময় বিশেষভাবে উঠে আসে পাকিস্থান সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তৎকালিন ইসলামাবাদ বেতারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুল গীতি গাওয়ার বিষয়টি। সে অনুষ্ঠানে তিনি গেয়েছিলেন “ সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা সোনা নয় তত খাঁট “ এই গানটি। শিল্পীর স্মৃতিচারণে আরও স্থান পায় তাঁর বাল্যকালে গান শেখা, মামার সংগে কোলকাতা যাওয়া, নজুরুল ইসলামের সামনে প্রথম গান গাওয়ার স্মৃতি প্রভৃতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দশর্করা মন্ত্রমুগ্ধের শিল্পির কথা শুনতে থাকেন। স্মৃতিচারণ শেষে শিল্পী দুখানি নজুরুল গীতি গেয়ে শোনান। বয়সের ভার তাঁর চলার গতিকে শ্লথ করে দিলেও কণ্ঠের মার্ধুয ও অন্তর্নিহিত শক্তি হরণ করতে পারেনি। তাইতো শিল্পীর কন্ঠে ”আমার যাবার সময় হলো দাও বিদায়” গানটি সকলকে আবেগআপ্লুত করে তোলে। দীর্ঘ বিরতির পর এটি ছিল দ্বিতীয় অনুষ্ঠান যেখানে তিনি সরাসরি দশর্কদের সামনে সংগীত পরিবশেন করলেন। এর আগে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী কমল দাশগুপ্তের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডমিতে।
বিরতির পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশ। প্রথমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাওয়া সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত। এরপর মঞ্চে আসেন মাইলস ভাতৃদ্বয়- হামিন এবং সাফিন। তারা একর পর এক গেয়ে শোনান মাইলস এর সব জনপ্রিয় গান। দশর্করা তখন অন্য রকম এক উত্তেজনায় ভাসতে থাকেন। প্রিয় গানের সংগে সুর মিলিয়ে, করতালি দিয়ে অথবা হাত দুলিয়ে শিল্পীদের উৎসাহ প্রদান করেন সকলে। এসময় মঞ্চ এবং গ্যালারি যেন একাকার হয়ে যায়। বিশেষ ভাললাগার অনুভূতি নিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।
এই অনুষ্ঠান পার্থের বাঙালীদের কাছে গর্ব করার একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ছিল মাইলস এর ত্রিশ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় অনুষ্ঠান এবং বিদেশের মাটিতে প্রথম অনুষ্ঠান যেখানে মায়ের সামনে হামিন এবং সাফিন গান গইলেন। আর এটাই সম্ভবত প্রথম অনুষ্ঠান যেখানে এক মঞ্চে মা এবং ছেলেরা গান করলেন।



Attachments









Post your comment