Home | Readers Link | Abdullah Abu Sayeed

Abdullah Abu Sayeed

Font size: Decrease font Enlarge font
image

Abdullah Abu Sayeed born 25 July 1940, is a Bangladeshi writer, television presenter, organizer and activist. Sayeed was given the 97th Ramon Magsaysay Award in Journalism, Literature, and Creative Communication Arts for "cultivating in the youth of Bangladesh a love for literature and its humanizing values through exposure to the great books of Bengal and the world". In 2012, He was awarded Bangla Academy Award for his essays.

[English Text only]

Audio clip at here

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের যে বত্তৃতা বিতর্ক তৈরী করেছে - নীচে দেওয়া হলো।
আমাকে দুর্বল পেয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান কিভাবে সবার আগে কথা বলতে বাধ্য করছেন। ঠিক যেভাবে দেশের জনগণকে দুর্বল পেয়ে আমাদের দেশের লুণ্ঠনকারীরা দুর্নীতি করে যায়।আমার জীবনে সব কিছুই একটু দেরিতে আসে। আমার একটা বইয়ে আমি লিখেছি, আমার শৈশব এসেছে দেরি করে, কৈশোর এসেছে দেরি করে, যৌবন এসেছে দেরি করে। আমার বিশ্বাস জীবনে বার্ধক্য যদি আসতেই হয়, তবে তাকে আমার মৃত্যুর পরেই আসতে হবে। তাই বলি, বয়স হলেও তোমাদের মতো আমিও তরুণ। আজ তোমাদের কাছে দুর্নীতি নিয়ে আমাকে কথা বলতে হবে। অনুষ্ঠানে আসার সময় আমার নিজের কাছে হঠাৎ প্রশ্ন জাগলো, দুর্নীতি জিনিসটি কি? আমি অনুষ্ঠানে এসেই টিআইবি’র চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলাম, চোর যে চুরি করে বা ডাকাত যে ডাকাতি করে সেটি কি দুর্নীতি? শুনে তিনি ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন। আমি বললাম, মনে হয় এটা দুর্নীতি নয়। কারণ, দুর্নীতি শব্দের মধ্যে একটা শব্দ লুকিয়ে আছে। তা হলো ‘নীতি’। চোর বা ডাকাতের কোন নীতি নেই। তাই চোর বা ডাকাতের কাজ ঠিক দুর্নীতি নয়। কারণ, তাদের কোন নীতিই নেই। দুর্নীতি সেই মানুষের কাজ যার নীতি আছে। যিনি মন্ত্রী হওয়ার সময় এই বলে শপথ করেন যে, আমি শত্রুমিত্র ভেদাভেদ না করে সবার প্রতি সমান বিচার করবো কিন্তু পরে সেটি করেন না, যখন তিনি শপথ করে অন্যায় করেন তখন সেটা দুর্নীতি।সেদিন রাতে আমি আশুলিয়ার বেড়িবাঁধ দিয়ে আসছিলাম। দেখলাম মাঝামাঝিতে পুলিশের একটা ফাঁড়ি। বেশ কিছু পুলিশ সেখানে। বুঝতে অসুবিধা হয় না ফাঁড়িটি বসানো হয়েছে এ রাস্তার যানবাহনগুলোকে রাতের বেলায় নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। কিন্তু দেখলাম পুলিশরা করছে অন্য কাজ। ছোট গাড়িগুলো ছেড়ে দিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে রয়েছে বড় গাড়িগুলো নিয়ে। তারা প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর ড্রাইভাররা তাদের হাতে কিছু একটা গুঁজে দিচ্ছেন। কি যে দিচ্ছেন। তারা সেটা পেয়ে গাড়িটিকে ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন কথা, পুলিশগুলোর চাকরি হলো রাস্তার নিরাপত্তা দেয়া। এটা তাদের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এর জন্য জনগণ তাদের জীবিকার জন্য পকেট থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে থাকে। কিন্তু ওরা তা না করে শক্তি ও অস্ত্রের সন্ত্রাসের মুখে প্রতিটি গাড়ির কাছ থেকে জোর করে টাকা কেড়ে নিচ্ছে। আমি মনে করি এটা দুর্নীতি। সুলতানা কামালের একটি লেখা আজ আমি ডেইলি স্টারে পড়ছিলাম। তিনি তাতে পুলিশের কথা বলেছেন। পুলিশ আজকাল কি সমস্ত কর্মকাণ্ড করছেন, আপনারা সবই তা দেখছেন এবং শুনছেন। উনি লিখেছেন, পুলিশ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিয়োজিত। আমাদের জনগণের দেয়া টাকায় তারা চলছে। তার কথা পড়ে আমার মনে হয়েছে জনগণ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তার যা শাস্তি হওয়া উচিত- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যদি আইন ভঙ্গ করে তার শাস্তি তার চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। আমি মনে করি, পাঁচগুণ বেশি হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য আমার যদি এক বছরের জেল হয়, একজন পুলিশের ৫ বছরের জেল হওয়া উচিত। আমার যদি ১০ বছরের জেল হয়, একজন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কারণ, সে প্রতিজ্ঞা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, আমি করিনি। এর জন্য জনগণ নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে তাদের ভরণ-পোষণ করছে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় বহুবিধ কারণে। কিন্তু যেসব কারণে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় তার মধ্যে প্রধান দু’টি কারণ হচ্ছে- জনগণের জীবনের সম্পদের নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তার জন্য জনগণ রাষ্ট্র গঠন করে রাষ্ট্রকে নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেয়। বলে আমার জীবন-সম্পদ তুমি রক্ষা করো। সার্বিক সমৃদ্ধি বিকাশে আমাদের সাহায্য করো। উন্নত দেশগুলোতে রাষ্ট্র সেটি রক্ষাও করে। আমাদের মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্র জনগণকে রক্ষা করবে কি উল্টো জনগণকে লুণ্ঠন করে। জনগণের অর্থে বেঁচে থাকা, জনগণের রক্ষায় ও সমৃদ্ধিতে দায়িত্ব ও অঙ্গীকারবদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা বেশির ভাগ আজ জল্লাদের মতো জনগণের বুকের ওপর বসে তাদের জীবন ও সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে। রক্ষক হয়ে উঠছে ভক্ষক। সুতরাং দুর্নীতিকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। দুর্নীতি হচ্ছে এক ধরনের লুণ্ঠন। দুর্নীতি হচ্ছে সন্ত্রাস। একজন সন্ত্রাসী আর একজন দুর্নীতিপরায়ণের পার্থক্য হচ্ছে- একজন সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে টাকা কেড়ে নেয়, আর একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কলমের অস্ত্রের জোরে জনগণের টাকা কেড়ে নেয়। পুলিশ দু’টো দিয়েই নেয়। ক’দিন আগে আমি ক’জন ছেলেকে একটা থানায় পাঠিয়েছিলাম একটি মেয়ের ওপর সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচাতে। পুলিশ হঠাৎ সেখানে এসে হাজির। এসেই বলে, নারী নির্যাতনের মামলা দেয়া হবে। এখন পুলিশ অস্ত্র দিয়েও লুণ্ঠন করছে; কলম দিয়েও করছে। সারাদেশে সবখানে আমরা এ চিত্রই দেখতে পাচ্ছি। আপনারা জানেন, কোন কাজ করতে অফিসার সাহেবদের কাছে গেলে তারা মুখে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বসে থাকেন। যতই বসে থাকেন ততই তার মিটার আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে থাকে। সিগনেচার দিলেই তো সব শেষ। আর কিছুই পাবেন না তিনি। সুতরাং যতক্ষণ তিনি সিগনেচার না দিচ্ছেন ততক্ষণ তার মিটার উঠছে। আমাদের ওপর গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রের লুণ্ঠন, সন্ত্রাস এবং বছরে আমাদের কাছ থেকে সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র যদি এ থেকে আমাদের বাঁচাতে পারতো, আমাদের জন্য ভাল হতো। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র এখনও সুসংগঠিত হয়নি। বৃটিশ আমলে সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিপরায়ণ- এর উদাহরণ ছিল খুবই কম। এক পুলিশ ছাড়া। পুলিশ এ ব্যাপারে খুবই ঐতিহ্যবাহী। বৃটিশ গভর্নমেন্ট সবাইকে কন্ট্রোল করতে পেরেছে, কিন্তু পুলিশকে পারেনি। কারণ, পুলিশকে দিয়েই তারা জনগণকে দমন করতো। একই কারণে আজও গভর্নমেন্ট এই পুলিশের কাছে দুর্বল। যে সময় পুলিশের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর খবরগুলো আসছে সেই সময় আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, পুলিশ ভাল হয়ে গেছে। লর্ড মেকলে লর্ড ক্লাইভের ওপরে একটা বই লিখেছেন। তাতে আছে ক্লাইভ তিনবার এসেছিলেন ভারতে। প্রথমবার তিনি ঘুষ খেয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার একেবারেই তা করেননি। দ্বিতীয়বার তিনি এমন কঠোর হাতে বৃটিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে বৃটিশ আর্মিতে বিদ্রোহ পর্যন্ত হয়েছিল। মেকলে লিখেছেন, বৃটিশরা যদি সেই সময় এই কঠোর পদক্ষেপ না নিতেন, যদি এদেশের জনগণের কাছে তারা প্রমাণ করতে না পারতেন যে তারা নৈতিকভাবে এদেশের মানুষের চেয়ে উপরে, তা হলে বৃটিশ সরকার এতদিন এদেশে টিকতো না। রাজা উৎপীড়ক হতে পারে। রাজা অত্যাচারী হতে পারে। রাজা চরিত্রহীন হতে পারে। কিন্তু রাজা চোর- এটা বৃটিশ আমলে আমরা দেখিনি। রাজা মানে সরকার; রাষ্ট্র। আমাদের এই সময়ে এটা বেড়েছে। সুতরাং এটা থেকে বেরিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। একটা গল্প দিয়ে আমি শেষ করবো। আমাদের বাসার সামনে একটা বেড়ার ঘর ছিল। কে বা কারা এটা বানিয়েছে। একদিন দেখলাম সেই বেড়ার ঘরের নিচের অংশটা অনেকদিন যতেœর অভাবে খেয়ে গেছে। কিন্তু কে যেন ওই খাওয়া জায়গাটা পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। আমার বাসায় এসেছিলেন এক ভদ্রলোক। আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বলেন তো, ওই যে বেড়ার ঘরের নিচের জায়গাটা খেয়ে যাওয়া জায়গাটা; পাতলা পলিথিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, এই পাতলা পলিথিন কি চোর ঠেকাবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে ওই লোকটা এটা ঘিরেছে কেন? আমি যখন উত্তর দিতে পারলাম না তিনি উত্তরটা দিলেন। বললেন, সে ঘিরেছে এটুকু বোঝাবার জন্যই- এই ঘরের রক্ষক আছে। ওই লোকটার মতো আমরা যদি নিজের জায়গাটা না ঘিরি, আমরা যদি প্রমাণ করতে না পারি ‘রক্ষক আছে’, তা হলে আমরা নিজেদের বাঁচাতে পারবো না। আমরা বৃটিশদের তাড়িয়েছি, বৃটিশরা আমাদের শোষণ করেছিল বলে। পাকিস্তানিদের তাড়িয়েছি, পাকিস্তানিরা আমাদের শোষণ করেছিল বলে। আজ দুর্বৃত্তরা আমাদের শোষণ করছে, আমরা কি তাদের তাড়াবো না?(

Courtesy Source at http://www.somewhereinblog.net/blog/eskimoblog/29609593

Subscribe to comments feed Comments (2 posted)

avatar
anupam 09/06/2012 19:03:00
Excellent! That's why I would say there is no decolonisation of Bangla - just another pahse of colonising effect in which oppresssion of peasants has increased in astronmical terms.
avatar
anupam 10/06/2012 08:47:36
By decolonising, I mean the end of oppression/exploitation of peasants/masses by the hegemonic parasitic classes in Bangla. The ever incresing process was initiated by the British Raj. Therefore, there is no end in sight. Bongobandhu's Baksal was meant to initiate that process of decolonisation and unleashed the venomous parasitic snakes of hegemony. The vested interested stakeholders will not allow their demise.
total: 2 | displaying: 1 - 2

Post your comment

  • Bold
  • Italic
  • Underline
  • Quote

Please enter the code you see in the image:

Captcha
  • email Email to a friend
  • print Print version
  • Plain text Plain text

Tagged as:

No tags for this article
Author info

Give Addrita a right to live
Give Addrita a right to live
omission
Short Film About Bengali Immigrants
Performer Needed
Media Partner - PriyoAustralia
Priyo Writers

Navigate archive
first first June, 2013 first first
Su Mo Tu We Th Fr Sa
1
2 3 4 5 6 7 8
9 10 11 12 13 14 15
16 17 18 19 20 21 22
23 24 25 26 27 28 29
30