Print this page

প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ৭১: ওয়াডারল্যান্ড স্মরনে - হারুন রশীদ আজাদ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক অকুতভয় সৈনিক নাম তার ওয়াডারল্যান্ড। মাতৃভুমি নেদারল্যান্ড দ্বিতীয় দেশ ছিল অষ্ট্রেলিয়া । ১৯৭১ সালে  বাঙ্গালীজাতি যখন তার মাতৃভুমি রক্ষার্থে স্বাধীনতা যুদ্ধে দখলকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে লড়াইরত তখন এই বীর সেনা বাংলাদেশে বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান বাটা স্যু কো¤পানীর শীর্ষ কর্মকর্ত্তা । পাকিস্তানি সেনাদের নির্মমতার দৃশ্য দেখে বিদেশী এই বীর , বাঙ্গালীজাতির পাশে এসে নিজেকে উৎর্সগ করেন । শ্যামল-সবুজ বাংলাকে ভাল না বাসলে কী এমনটা স¤ভব হয় ?-তিনি শুধু যুদ্ধ করেননি ! একই সাথে স্থানীয়দের প্রশিক্ষন দিয়েছেন , আশ্রয় দিয়েছেন ,অতিত আধুনিক যুদ্ধের রণ-কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন । এমনকি অর্থ সাহায্যে ও দানবীরের ভুমিকা রেখেছেন বীর এই যোদ্ধা । তৃতীয় বিশ্বের এতবড় একটা জাতির ঊপর পাকিস্তানিদের অমানবিক শক্তি প্রয়োগকে  নিজ চোখে দেখেছেন বলেই বাঙ্গালীজাতির পাশা পাশি হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন । জাতির জনক বঙ্গবšধুর আওয়ামি লীগ সরকার এই বীরকে স¦াধীনতা উত্তর ""বীর প্রতীক '' উপাধী দিয়ে জাতিয় সম¥ানে ভুষিত করেন । ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বীর ওয়াডারল্যান্ড ঢাকায় বসবাস করলেও তৎকালীন সামরিক সৈরাচার যখন যুদ্ধাপরাধিদের পুর্ণবাসন ও রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে বসাতে শুরু করেন ,তখনই হয়তো বুঝতে পারেন বাংলাদেশ ৭১'র যুদ্ধে বিজয়ীদের হাতছাড়া দেশ ,এদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ীর নয়। পরাজিত শক্তির হাতে দেশ, সামরিক শাসকের হাতে দেশ ,তাই তিনি নীজ দেশ অষ্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একমাত্র বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ২০০১ সালের মে মাসে ওয়ের্ষ্টান অষ্ট্রেলিয়ার রাজধানী পার্থ শহরের কাছে  এই বীর তার নিজ বাড়ীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । পার্থের বৃহত¦র সমাধিস্থল কারাকাট্টায় তাকে সমাধিস্থ করা হয় । তখন শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিকে ২০০১ সালের ২৫শে আগষ্ট ,ক্যানবেরায় বসবাসকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসানের  প্রচেষ্টায় ও তার নেতৃতে¦  ইতিহাসের একমাত্র বিদেশী বীর প্রতীককে শ্রদ্ধা জানাতেঅষ্ট্রেলিয়ায় বস বাস কারিরা পার্থ ক্যানবেরা ও সিডনি থেকে ছুঁটে যান পাথের কারাকাট্টা সমাধিস্থর্লে ।    ওয়াডারল্যান্ডকে বাংলার মাটি ও মানুেেষর কাছে স¥রনীয় করে রাখতে  ২০১০সালের   ১২ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার গুলশান সড়কের নাম রাখা হয়েছে ওয়াডারল্যান্ড স¥রনি । এই অবদানের নেপথ্য নায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসানের কথা না বললে ইতিহাসের অংশ অসমাপ্ত থেকে যায় ।  আওয়ামি লীগ নেতৃত¦াধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসানের নেতৃতে¦ ও সহযোগীতায়  প্রতি বছর রকমারি কর্মসুচীর মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধ আর এই বীরপ্রতিককে স¥রন করে চলছেন । ২০১১'র ২৮শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ সমে¥লনে যোগ দিতে ওয়ের্ষ্টান অষ্ট্রেলিয়ার রাজধানী পার্থে এলে মহান বীর মুক্তিযেদ্ধিার সমাধীতে আসেন শ্রদ্ধা জানাতে । বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রেলিায়ার নেতৃবৃšদ ও ওয়াডারল্যান্ড স¥ৃতি পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর পর পরই শ্রদ্ধা জানায়  ওয়াডারল্যান্ডকে ।অষ্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড ও ফিজি'র  দায়িত¦রত মাননীয় হাইকমিশনার লেঃজেঃ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবিষয়ে সকলকেই সহযোগীতায় সর্বাগ্রে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েদেন ।৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে হে বীরওয়াডারল্যান্ড তুমি সু-সংবাদটি শুনে যেতে পারনি  ৩০লক্ষ শহীদ আর ধর্ষিতা মা বোনেরা যারা পর পারে চলে গেছ তোমাদের আত§ার কাছে আমরা বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা বার্তা পৌছে দিচ্ছি, "" ৪০ কিংবা ৪০০ নছর লাগলেও বাংলাদেশের মাটিতে৭১'র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে আর এর সমাপ্তি পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে , চলমান প্রজšম এবিষয়ে কাউকে ছাড় দেবেনা ।